Image Not Found!
ঢাকা   মঙ্গলবার ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

  ফুলবাড়িয়ায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত (2)        ক-শ্রেণীর পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত হয়েও ফুলবাড়িয়া পৌরবাসী কি সব সুবিধা পাচ্ছে? (2)        ফুলবাড়িয়া উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের কমিটি ঘোষণা (2)        ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতার বিরোধিতা কেন্দ্র করে প্রতিবাদ কর্মসূচি (2)        গাজীপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত সাংবাদিক তুহিনের পরিবারের পাশে পুলিশ সুপার (2)        সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের কবর জিয়ারত করলেন ফুলবাড়ীয়া ইউএনও, পাশে থাকার আশ্বাস (2)        ফুলবাড়ীয়ায় সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার ১ (2)        ফুলবাড়ীয়ায় গ্রামের বাড়ীতে সাংবাদিক তুহিনকে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফনঃ ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ (2)        বড়বিলায় রাস্তা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক (2)        উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছা (108)      

ময়মনসিংহ সদরে পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার : ময়মনসিংহ সদরের কয়েকটি গ্রামে বৃষ্টির পানিতে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। খাল ভরাট এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিত মৎস্য খামার গড়ে ওঠা এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। এর ফলে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে পানিবন্দি রয়েছে এলাকার প্রায় তিন হাজার পরিবার। ডুবে গেছে বাড়ির আঙিনা, বসতঘরের মেঝে, রান্নার চুলোসহ বাড়ির টয়লেট। ডুবতে বসেছে নলকূপগুলোও। এ অবস্থায় গবাদিপশু ও গৃহপালিত হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছে পানিবন্দি পরিবারগুলো। সমস্যা সমাধানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেও কোন কাজ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানায়, ময়মনসিংহ সদরের আলালপুর, চরহরিপুর, বড়বিলা, বাজিতপুর, রশিদপুর ও তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের তিন হাজার পরিবারের প্রায় ১০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ। সদরের আলালপুর গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, ঘরের বাইরে আটকে থাকা পানির সঙ্গে প্রায় একমাস ধরে বসবাস করছেন এলাকাবাসী। জলমগ্ন পরিবারের সদস্য কমলা বেগম জানান, জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হতেই লাগছে কলাগাছের ভেলা। বসতঘরের মেঝে, রান্নার চুলো, টয়লেট সবকিছু পানির নিচে ডুবে আছে। পানীয় জলের নলকূপ প্রায় পানির নিচে চলে গেছে জানান তিনি।
বৃদ্ধ কবিরুল হক (৭০) জানান, ’৮৮ সালের বন্যাতেও এরকম পানিবন্দি হয়ে তাদের থাকতে হয়নি। জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির গরু, ছাগল ও হাসঁমুরগি নিয়ে সবাই খুব পেরেসানির মধ্যে আছে। কবে এ থেকে মুক্তি পাবেন প্রশ্ন করেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল আজিজ জানান, গজারিয়া, বকউড়া ও বাউশি বিলের সংযোগ খাল ভরাটসহ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মৎস্য খামার গড়ে ওঠায় বেশ কিছু গ্রামে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য কামরুল হাসান (৫৫) জানান, গেল দশ বছর আগেও বিলের একাংশের পানি মোজাহারদি, দয়ারামপুর ও আরেক অংশ চরহরিপুর ও চরঈশ্বরদিয়ার সাহেবখালি খাল হয়ে নেমে যেত ব্রহ্মপুত্র নদে। তিনি আরও জানান, অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য খামারের কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে কয়েক গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনে বারবার প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও কাজ না হওয়ায় হতাশ ভুক্তভোগীরা। জেলা খামারবাড়ির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক লাবলু হোসেন জানান, জলাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকার প্রায় ১০০ হেক্টর আমন জমি অনাবাদী রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উঠতি আমন ফসলও। তিনি আরও জানান, পানির কারণে ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুরের মাছ।
জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে উপায় খুঁজে বের করতে প্রশাসনের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। খুব শিগগিরই এর স্থায়ী ও কার্য্কর উদ্যোগ দেখা যাবে।
পরিকল্পিত খাল খননের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা না হলে আগামীতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।